FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedinMixxRSS Feed

পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে চিনের মহাকাশ স্টেশন

পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে চিনের মহাকাশ স্টেশনচীন যখন প্রথমবারের মতো একাই মহাকাশ স্টেশন ‘তিয়ানগং-১’ চালু করে, তখন এটিকে বিশাল একটি মহাকাশ কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল।

কিন্তু ২০১৬ সালে তিয়ানগং-১ এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চীনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এখন ধারণা করছেন, ৮ টন জন ওজনের এই মহাকাশ স্টেশনটি কয়েক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে।

উদ্বেগজনক ব্যাপার হচ্ছে, মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবীর কোথায় এবং কখন পতিত হবে সে ব্যাপারে অনিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।

চীনের কর্মকর্তারা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করে নেন যে, তারা ‘তিয়ানগং-১’ মহাকাশ স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং বর্তমানে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এটি ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে পৃথিবীতে পতিত হবে।

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্টেশনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এর দ্রুত পতন শুরু হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পত্রিকা গার্ডিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. জনাথন ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘এখন এটি ৩০০ কিলোমিটারের কম নিচে রয়েছে এবং পৃথিবীর ওপরের এই স্তরটি ঘন, তাই ক্ষয়ের হার আরো বেশি বেড়ে চলেছে। আমি মনে করি, এটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে- ২০১৭ সালের শেষের দিকে বা ২০১৮ সালের প্রথম দিকে।’

তিয়ানগং-১-এর গতিবিধি সর্বক্ষণ পর্যবেক্ষণ করছে চীনের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র এবং সতর্কতা জারি করার অঙ্গীকার করেছে, যদি আসন্ন কোনো সম্ভাব্য সংঘর্ষ হয়।

কিন্তু এই বক্তব্য সকলে আস্থা রাখতে পারছেন না। স্পেস ডটকমকে থমাস ডরমেন নামের একজন শৌখিন স্পেস ট্রাকার বলেন, ‘আমি বলবো, বিশ্বকে জানাতে চীন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি প্রকৃত খারাপ দিন হতে পারে যদি টুকরো টুকরো হওয়া স্টেশনটি কোনো জনবহুল অঞ্চলে পতিত হয়, কিন্তু যদি প্রত্যন্ত অঞ্চল বা সাগরে পতিত হয় তাহলে ঝুঁকির কিছু নেই।’

বায়ুমণ্ডলে ‍পুণরায় প্রবেশে মহাকাশ স্টেশনটির বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ড. ম্যাকডওয়েল বলেন, ‘মহাকাশ স্টেশনটি কোথায় পতিত হতে যাচ্ছে সেই সতর্কতা জানাতে আমরা হয়তো মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় পাব। এটিকে তখন নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি বায়ুমণ্ডলে পুণরায় প্রবেশের কয়েক দিন আগেও সম্ভবত আমরা ভালোমতো আন্দাজ করতে পারবো না, পতিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৬-৭ ঘণ্টা আগে বোঝা যাবে যে, কোথায় এটি পতিত হতে যাচ্ছে।’

এটি কবে পৃথিবীতে প্রবেশ করবে সেটা জানা না যাওয়া মানে, এটি কখন পতিত হবে সেটাও জানা না যাওয়া।

মহাকাশে বিশাল স্টেশন নির্মাণের আশা নিয়ে ২০১১ সালে চীন ‘লং মার্চ’ রকেটের সাহায্যে মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল ‘তিয়ানগং-১’ পাঠিয়েছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে বিশাল মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ শেষ করার করার প্রত্যাশায় ছিল। এই স্টেশন মডিউলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যেমন ২০১১ সালে মানুষবিহীন সেনঝু-৮ মিশন এতে যুক্ত হয় এবং ২০১২ সালে নভোচারী নিয়ে সেনঝু-১০ মিশন মডিউলটিতে যুক্ত হয়।

চায়না ম্যানড স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমএসই) কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল যে, তিয়ংগং-১ এর মাধ্যমে চমকপ্রদ অ্যাপ্লিকেশন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া গেছে, যা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, সমুদ্র এবং অরন্য অ্যাপ্লিকেশন, জলজ এবং বাস্তুসংস্থানসংক্রান্ত পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার, শহুরে তাপীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।