FacebookMySpaceTwitterDiggDeliciousStumbleuponGoogle BookmarksRedditNewsvineTechnoratiLinkedinMixxRSS Feed

কেন অনলাইন প্রাইভেসি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিত

কেন অনলাইন প্রাইভেসি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিতগোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, তথ্য সুরক্ষা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের (এনসিএসএ) নেতৃত্বে আজ বিশ্বের ৪৭টির বেশি দেশে পালিত হয়েছে, ডাটা প্রাইভেসি ডে বা তথ্য সুরক্ষা দিবস।

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের বৈশ্বিক সচেতনতামূলক এই কার্যক্রমের অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবা সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে এই দিবসে বিশ্বনাগরিকরা সচেতনতা তৈরির যেই মহান দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয় সেখানে এই সংগঠনও যুক্ত হয়।

তথ্য সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রাইভেসি টক’ শিরোনামে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংগঠনটি।

সভাপতিত্ব ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ। মূল প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন- ডাটা প্রাইভেসি ডে বা তথ্য সুরক্ষা দিবস বিশ্বব্যাপী একটি বৃহত্তর ক্যাম্পেইনের অংশ, যেখানে প্রাইভেসির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। তুলে ধরা হয় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সহজ সব পদ্ধতি।

ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মতো প্রযুক্তিগত অগ্রসরতার আগামী প্রজন্মের জ্বালানি হলো আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং আমাদের অভ্যাস ও আগ্রহ। আইওটি বলতে আমাদের বাসাবাড়ি, স্কুল ও কর্মক্ষেত্র- সব জিনিসেই ইন্টারনেট ডিভাইসের সংযোগ থাকাকে বোঝায়। তাই কিভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা করা যায় ভোক্তাদের তা অবশ্যই শিখতে হবে।

কেন অনলাইন প্রাইভেসি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিত?
আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অবিরাম তথ্য প্রবাহ তৈরি করছি। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ (সাত) কোটির বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি, যা ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৫ (পাঁচ) কোটিতে দাঁড়াবে। আজকে আমরা আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট ও আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ডিভাইসগুলোতে ব্যয় করছি। এখনও খুব কম মানুষই জানে যে, আমাদের ব্যবহৃত ডিভাইস ও অনলাইন সেবা থেকে অসংখ্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা শেয়ার করা হচ্ছে। এসব তথ্য অনির্দিষ্টভাবে গচ্ছিত করা হতে পারে এবং আমাদের ব্যক্তিগত এসব তথ্য উপকারে ব্যবহার করা হতে পারে আবার অবাঞ্চিতভাবেও ব্যবহার করা হতে পারে।

শক্তিশালী অনলাইন ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অনুপস্থিতিতে অনেক কোম্পানি তাদের ইউজার ও ক্রেতাদের ব্যক্তিগত আচরণ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাচ্ছে এবং ভোক্তাদের এসব তথ্য তারা লাভের জন্য বিক্রি করে দিচ্ছে। ভোক্তাদের বোঝা প্রয়োজন যে তাদের তথ্যের সঠিক মূল্য আসলে কতটা এবং কিভাবে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা শেয়ার করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করা জানতে হবে।

প্রাইভেসি সম্পর্কে কিছু বাস্তব বিষয় ও পরিসংখ্যান
বর্তমানে এই ডিজিটাল-সংযুক্তির যুগে টিনেজার ও বাবা-মায়েরা নিজেদের সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তা সত্ত্বেও তারা অনলাইনে অব্যাহতভাবে প্রচুর পরিমাণ সময় ব্যয় করছে। সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে এনসিএসএ/মাইক্রোসফট।

* জরিপে অংশ নেয়া ৩৯ শতাংশ টিনেজার বলেছে, অনলাইনে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে পড়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিল এবং ৩৬ শতাংশ বলেছে, তাদের প্রাইভেট ভাবে শেয়ার করা ছবি ও ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে একই ধরনের উদ্বিগ্ন ছিল।

* অনলাইনে টিনেজারদের আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে টিনেজার ও বাবা-মায়েদের যে শীর্ষ তিনটি সম্পৃক্ততা রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ১) অনেকে অনুমতি ছাড়াই একজন টিনেইজারের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছেন। এক্ষেত্রে টিন ও বাবা-মায়েরা সমানে সমানে জড়িত। অর্থাৎ ৪১ শতাংশ বনাম ৪১ শতাংশ। ২) অনেকে একজন টিনের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করেছেন। এক্ষেত্রে টিনদের ৩৯ শতাংশ ও বাবা-মাদের ৪২ শতাংশ জড়িত। ৩) একজন টিনের ফটো অথবা ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে অথচ তারা চেয়েছিল এসব ভিডিও বা ফটো গোপন রাখতে। এক্ষেত্রে সিকিউরিটি ভঙ্গ করেছে টিনদের ৩৬ শতাংশ ও বাবা-মায়েদের ৩৪ শতাংশ।

* ৫৭ শতাংশ টিনেইজার বলেছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়া অথবা অ্যাপের মতো কোনো অনলাইন প্লাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলেছে, যা সম্পর্কে তাদের বাবা-মা অবগত নয়।

* ২০১৬ সালে এনসিএসএ ও ইএসইটি পরিচালিত একটি জরিপ মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতি চারজনের একজন (২৪%) তাদের বাসাবাড়িতে থাকা ডিভাইস দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা তাদের মোবাইল ডিভাইস বা কম্পিউটারের রিমোট অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। যেমন সামনের দরজার লক, হোম সিকিউরিটি সিস্টেম, টিভি, থারমোস্ট্যাট)।

* ৪২ শতাংশ বাবা-মা গৃহস্থালির কাজে দিনে বহুবার হয় গুগলের ভয়েস অ্যাসিস্টেন্ট, অ্যামাজনের অ্যালেক্সা, অ্যাপলের সিরি অথবা মাইক্রোসফটের কর্টানা ব্যবহার করেছেন।

* ৮৯ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যতে তাদের সমস্ত গৃহস্থালি ডিভাইস একত্রে ত্রুটিহীনভাবে সংযুক্ত করতে পছন্দ করবে।

* ২০২০ সাল নাগাদ বাসাবাড়িতে গড়ে ৫০টি পর্যন্ত সংযুক্তি বা ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইস ব্যবহার করা হবে।

* ২০১৬ সালে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর আইওটি পণ্য থেকে ধারণকৃত ২.২ বিলিয়ন তথ্য ফাঁস হয়ে তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

* প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইন্টারনেট সংযুক্ত গৃহস্থালির ডিভাইসগুলো তাদের ব্যবহৃত তথ্য সঞ্চিত করায় তারা উদ্বিগ্ন। আর ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ বলছেন, এই ধরনের গ্যাজেটগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক মাত্রায় জেঁকে বসবে, যা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

* এটিঅ্যান্ডটির সাইবার সিকিউরিটি ইনসাইট রিপোর্ট মতে, এন্টারপ্রাইজগুলোর ৪০ শতাংশের বেশি আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ডিভাইস স্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে অথবা এসব স্থাপনে আগ্রহী তারা।

সোশ্যাল মিডিয়া
সোশ্যাল মিডিয়া অব্যাহতভাবে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অনলাইন কার্যক্রম হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটা এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে ব্যক্তিগত সর্বশেষ খবরাখবর, ফটো শেয়ার ও সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার থেকে শুরু করে সবকিছুই করা যায়। যতটা সম্ভব সুবিধাজনক ও মজাদারভাবে এসব প্লাটফর্মে সব বয়সি লোকজন যোগাযোগ করতে পারে। তাই এসব প্লাটফর্মে উদ্দিষ্ট ব্যক্তির ইচ্ছার বাইরে গিয়ে এবং একজন ইউজারের অবগতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার হওয়া থেকে প্রাইভেসি সেটিং সবসময় রক্ষা করতে পারে না।

* অনলাইনে ৪১ শতাংশ আমেরিকান ব্যক্তিগতভাবে হয়রানিমূলক অচরণের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় পাঁচজনে একজন (১৮ শতাংশ) শারীরিক হুমকি, একটি দীর্ঘসময় ব্যাপী হয়রানি, যৌন হয়রানি অথবা উত্ত্যক্তের মতো বিশেষ ধরনের গুরুতর অনলাইন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

* ৮২ শতাংশ সাইবার উত্ত্যক্তকারী সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সম্পর্কে তথ্য খুঁজে বের করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। যেমন- কোথায় তারা বসবাস করে এবং কোন স্কুলে যাতায়াত করে।

* এনসিএসএ/মাইক্রোসফ্ট ২০১৭ এর ‘কিপিং আপ উইথ জেনারেশন অ্যাপ’ শীর্ষক জরিপে দেখা যায় প্রাইভেসি ইস্যুতে টিনেজাররা ব্যাপক হারে জানিয়েছে যে, কিছু ব্যাপারে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন: ১) এক্ষেত্রে ৪১ শতাংশ টিনদের অনুমতি ছাড়া তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা হয়েছে। ২) তাদের সম্পর্কে যেসব বিষয় গোপন রাখাতে অগ্রাধিকার দিয়েছিল সেসব ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে শেয়ার করা হয়েছে। এ ধরনের ভুক্তভোগীর সংখ্যা ৩৯ শতাংশ। ৩) ৩৬ শতাংশ টিনের গোপন ফটো বা ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে।

ফ্রড ওয়াচ নেটওয়ার্ক জরিপে দেখা গেছে, ১০ ভোক্তার প্রায় ৪ জন মাসে অন্তত একবার ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে এবং এদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ গত ছয় মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মালামাল ক্রয় করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল রেকর্ড
মানুষের সর্বাপেক্ষা স্পর্শকাতর ও ব্যক্তিগত তথ্যসমূহের মধ্যে মেডিকেল ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অন্যতম। প্রযুক্তি চমৎকারভাবে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে এবং রোগীদের রোগ সারাতেও দারুনভাবে কাজ করছে। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি মেডিকেল পেশার লোকজন রোগীদের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেকর্ড করার দিকে ঝুঁকছেন এবং তারা ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত মেডিকেল ডিভাইসের একেবারে প্রথম ধাপে রয়েছেন। আমরা আমাদের ডিভাইসগুলোতে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, আর্থিক তথ্য, চিকিৎসার ইতিবৃত্ত ও বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থার তথ্যসহ নানা তথ্য রেকর্ড করছি। আর এই বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করছে ইনস্যুরেন্স কোম্পানিসহ মেডিকেল সংস্থাগুলো। সাইবার অপরাধীদের কাছে এসব তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাই এসব তথ্য হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে রোগীরা গভীরভাবে আক্রান্তের শিকার হবেন।

* এক জরিপ মতে, পাঁচ মার্কিন চিকিৎসকের ৪ জন তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমে সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন।

* স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের নিয়ে সম্প্রতি পরিচালিত একটি জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, বিগত ১২ মাসে হয় তারা ম্যালওয়্যার অথবা র‌্যানসামওয়্যার হামলার শিকার হয়েছেন।

* স্বাস্থ্য বীমা জবাবদিহিতা আইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অন্য কাউকে প্রদান করা অবৈধ। প্রতি বছর এই ধরনের প্রাইভেসি লঙ্ঘনের ৩০ হাজারেরও অধিক রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

* সাম্প্রতিক হেলথকেয়ার ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি-এইচআইএমএসএস পরিসংখ্যনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই (৭৭ শতাংশ) উল্লেখ করেছে, মেডিকেল তথ্য চুরি করা সাইবার অপরাধীদের কাছে প্রাথমিক প্রেরণা।

* অভ্যন্তরীণ লোকজন স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি অবিরত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত সংঘটিত তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর মধ্যে ৯৬টি ঘটনা বা ৪১ শতাংশের জন্য দায়ী এই অভ্যন্তরীণ লোকজন। অভ্যন্তরীণ ভুল বা অনিয়মের মাধ্যমে ১১ লাখ ৭০ হাজারের অধিক রোগীর তথ্য লঙ্ঘন করা হয়েছে।

সংবিধানে তথ্য সুরক্ষা ও গোপনীয়তা অধিকার আছে, আইন নেই
বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো চরম নৈতিক অপরাধকে প্রতিহত করার জন্য আইনি ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কেউ ইচ্ছা করলেই যাতে আরেক নাগরিকের অধিকার ক্ষুন্ন করতে না পারে সেজন্যই শক্ত আইন থাকা উচিত। আইন ব্যক্তির পক্ষে তার অধিকার সংরক্ষণে দায়িত্ব পালন করে। এর সঙ্গে সঙ্গে আইন মেনে চলার জন্য জনসচেতনতাও প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যক্তি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রচার ও প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির সর্বাধিক নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কিভাবে বজায় থাকবে তা নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিক তথ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নে যেসব বিষয় গুরুত্ব দেয়া উচিত
* তথ্য সংগ্রহে উদ্দেশ্য শণাক্তের ব্যবস্থা থাকা : তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার আগে কোন তথ্যটি কেন, কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হচ্ছে তা অবশ্যই শণাক্ত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

* তথ্য সংগ্রহে নাগরিকের সম্মতি নেয়া : বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া স্বাভাবিক সময়ে ব্যক্তিগত তথ্য অবশ্যই ব্যক্তির সম্মতিতে সংগ্রহ করতে হবে।

* গোপনীয়তার নীতি বাস্তবায়নে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা : সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যারা তাদের গ্রাহক/ভোক্তার ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করে, তারা যাতে গোপনীয়তার নীতি মেনে চলে সে বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরি।

* ব্যক্তিগত তথ্য হস্তান্তরে কঠোর শাস্তির বিধান : সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভোক্তা/গ্রাহকদের থেকে যেসব তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পক্ষকে হস্তান্তর করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান থাকতে হবে।

* জনসচেতনতা : শুধু আইন দিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো অপকর্ম বন্ধ করা যাবে না। মানুষ নৈতিক মূল্যবোধের বিষয়ে সজাগ হলে এ ধরনের চরম নৈতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে সবখানে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে হবে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রাইভেসি সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ
মনে রাখতে হবে, ‘ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা ভালো’।

* কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন তাহলে তা সুরক্ষা করুন। অবাঞ্চিত ও অনুনমোদিত প্রবেশাধিকার থেকে ভোক্তাদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তা পদক্ষেপ অনুসরণ করুন।

* আপনারা যেভাবে ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার ও শেয়ার করছেন সে সম্পর্কে খোলামেলা ও সৎ হোন। ভোক্তারা তাদের তথ্য ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আপনাদের কাছে কেমনটা প্রত্যাশা করে থাকতে পারে সে সম্পর্কে ভাবুন এবং তাদের দেওয়া তথ্য নিরাপদ রাখতে ডিফল্ট পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করুন।

* আপনারা যা করবেন বলেছেন তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোক্তাদের মাঝে আস্থা প্রতিষ্ঠা করুন। আপনার প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেসি বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে জনগণের সঙ্গে পরিষ্কার ও সচেতনভাবে যোগাযোগ করুন। একইসঙ্গে আপনার প্রতিষ্ঠান প্রাইভেসি বজায় রাখতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিন।

* আপনার প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেসির সংস্কৃতি গড়ে তুলুন। ভোক্তা ও কর্মচারীদের তথ্য নিরাপদ রাখতে আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদের ভোক্তা ও কর্মচারীদের তথ্য নিরাপদ রাখার গুরুত্ব ও তার প্রভাব সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিন।

* আপনার প্রতিষ্ঠান কিভাবে তথ্য রক্ষণাবেক্ষণ করছে সে সম্পর্কে ভোক্তাদের অবহিত করতে অনলাইন সিস্টেমের ‘প্রাইভেসি নোটিস’কে কেবল আপনার প্রতিষ্ঠানের একমাত্র টুল হিসেবে গণ্য করবেন না। এক্ষেত্রে কিছু ফিচার যুক্ত করুন যাতে করে ভোক্তারা সুনির্দিষ্ট কিছু ধরনের তথ্যে প্রবেশ করার বিষয়ে অনুমোদন/অননুমোদনের বিষয় উল্লেখ করতে পারে।

* পার্টনার প্রতিষ্ঠান ও আপনার অধীনস্ত ব্যবসায়ীদের সার্বিক বিষয়গুলো যথাযথ সতর্কতার সঙ্গে দেখভাল করুন। কেননা আপনার পক্ষে কেউ সেবা প্রদান করে থাকলে তারা যেভাবে আপনার ভোক্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও তা ব্যবহার করবে তার দায়বদ্ধতা আপনারই।